কয়েক দিন আগেও ভাবা হয়েছিল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে চুক্তি নবায়নে মরিয়া রিয়াল মাদ্রিদ। শুধু মাঠের খেলায়ই নয়, ব্যবসায়িক দিক থেকেও তো ব্রাজিলিয়ান তারকা রিয়ালের জন্য যেন সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস। কিন্তু এখন জানা গেল উল্টো খবর।
ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন চুক্তির বিষয়ে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে ভিনিসিয়ুসকে ক্লাব ছাড়ার সুযোগ দিতে রাজি রিয়াল মাদ্রিদ। চুক্তি নিয়ে সর্বশেষ প্রস্তাব আর বাড়াতে রাজি নয় মাদ্রিদের ক্লাবটি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’ জানিয়েছে, ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের রিয়াল ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবই চূড়ান্ত। নতুন করে আর কোনো আলোচনায় বসবে না ক্লাবটি।
ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার প্রস্তাব গ্রহণ করলে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে, তা না করলে চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই তাঁর ক্লাব ছাড়ার পথ সহজ করে দেবে ক্লাবটি। ভিনিসিয়ুস চুক্তির শেষ বছরে যেন পা না দেন এবং পরে বিনা মূল্যে (ফ্রি ট্রান্সফারে) ক্লাব ছাড়ার সুযোগ না পান, সেই উদ্দেশ্যেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত।
রিয়ালে ভিনির ভবিষ্যৎ নিয়ে নাটকীয়তা প্রায় দুই বছর গড়াচ্ছে বললে মোটেই বাড়িয়ে বলা হবে না। ২০২৪ কোপা আমেরিকার পরপর আলোচনা শুরু হলেও কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, চুক্তিতে দুই পক্ষের মূল বিরোধের জায়গা হলো ‘সাইনিং বোনাস’। বেতন নিয়ে খুব একটা সমস্যা নেই।
রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ বেতনসীমার কাছাকাছিই পাচ্ছেন ভিনিসিয়ুস। ব্যক্তিগত অর্জনের বোনাস মিলিয়ে এখন তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ ইউরো। রিয়ালে সর্বোচ্চ বেতনের সীমা ২ কোটি ইউরো। ফলে বেতনের এই সামান্য ব্যবধান চুক্তি নবায়নে কোনো বাধা নয়।
গ্লোবো জানিয়েছে, মূল আলোচনা চলছে পাঁচ বছরের চুক্তির মোট আর্থিক অঙ্ক নিয়ে, আর ঠিক এখানেই রিয়াল এবং ভিনিসিয়ুসের মধ্যে মতবিরোধ চলছে। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পর ভিনিসিয়ুসকে নতুন প্রস্তাব দেয় রিয়াল। সেটা গত মৌসুমে এই ফরোয়ার্ডের চাওয়া অঙ্কের চেয়ে বেশ কম।
রিয়ালের যুক্তি, বর্তমানে ক্লাবের কোনো খেলোয়াড়ের সাইনিং বোনাস ‘ফ্রি ট্রান্সফারে’ (যেমন—কিলিয়ান এমবাপ্পে) আসা খেলোয়াড়দের চেয়ে কম হওয়া উচিত। অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস ও তাঁর প্রতিনিধিদের পাল্টা দাবি, দলবদলের বাজারে তাঁর বিকল্প খুঁজতে রিয়ালকে যে পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হতো, সে তুলনায় তাঁদের চাওয়া আর্থিক অঙ্কটা বেশ কম।
চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বেশ সক্রিয় ভূমিকা রাখছে রিয়াল মাদ্রিদ। এ সপ্তাহেই ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছেন ফরোয়ার্ড কার্লোস এস্পি। পাশাপাশি আইভরিকোস্ট তারকা ইয়ান দিওমান্দে দ্রুতই চলে এলে আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুসের ওপর নির্ভরতা কমবে রিয়ালের নতুন কোচ জোসে মরিনিওর। এই পরিস্থিতিতে চুক্তিসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব যদি চলতেই থাকে, তবে ভিনিসিয়ুসের একাদশের বাইরে বেঞ্চে বসে থাকাটা বাস্তবতায় রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।




Post a Comment